ব্লগ-এ ফিরে যান
মার্কেটিং মাস্টারক্লাস ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫ মিনিট

ডিজিটাল মার্কেটিং মাস্টারক্লাস: ট্রাফিক থেকে সেলস জেনারেট করার সিক্রেট স্ট্র্যাটেজি

হেড অফ মার্কেটিং

Content Writer, idokans.com

"ভাই, ডলার খরচ করে বুস্ট করলাম, কিন্তু ইনবক্সে শুধু 'Price Please' বা 'Hi' আসে, কেউ অর্ডার করে না!" — এটি বাংলাদেশের ৯৫% অনলাইন উদ্যোক্তার আক্ষেপ। সমস্যা আপনার পণ্যে নয়, সমস্যা আপনার মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিতে। আজ আমরা শিখবো কিভাবে শুধু লাইক-কমেন্ট না চেয়ে, কাস্টমারকে দিয়ে 'অর্ডার' বাটনে ক্লিক করাবেন।

১. সেলস ফানেল (Sales Funnel) বোঝা

অপরিচিত একজন মানুষ দেখামাত্রই আপনার পণ্য কিনবে না। তাকে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আনতে হবে। একে মার্কেটিংয়ের ভাষায় ফানেল বলে।

ধাপ ১: Awareness (পরিচিতি)

কাস্টমারকে জানান যে আপনি আছেন। এখানে বিক্রির চেষ্টা করবেন না। শিক্ষামূলক বা বিনোদনমূলক ভিডিও দিন।
উদাহরণ: "চুলের সমস্যা? জানুন সমাধান" (তেল বিক্রির অ্যাড নয়)।

ধাপ ২: Consideration (বিবেচনা)

যারা ১ম ধাপের ভিডিও দেখেছে, তাদের কাছে আপনার পণ্যের উপকারিতা তুলে ধরুন।
উদাহরণ: "কেন আমাদের হর্বাল অয়েল বাজারের সেরা? দেখুন কাস্টমার রিভিউ।"

ধাপ ৩: Conversion (ক্রয়)

এবার অফার দিন। "আজ কিনলে ডেলিভারি ফ্রি" বা "বাই ওয়ান গেট ওয়ান"। এখানে কল-টু-অ্যাকশন (CTA) থাকবে "অর্ডার করুন"।

২. কন্টেন্ট ইজ কিং: ভিডিও বনাম ইমেজ

২০২৬ সালে এসে স্ট্যাটিক ইমেজের দিন শেষ। এখন ভিডিওর যুগ।

  • ব্যবহারিক ভিডিও (Demonstration): প্রোডাক্টটি কিভাবে কাজ করে তা দেখান। জামা হলে পরে দেখান, গ্যাজেট হলে চালিয়ে দেখান।
  • ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্ট (UGC): আপনার কাস্টমাররা প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে খুশি—এমন ভিডিও বা ছবি শেয়ার করুন। এটি নতুন কাস্টমারের বিশ্বাস অর্জনে ১০০% কার্যকরী।

৩. রি-টার্গেটিং: গোপন অস্ত্র

গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৮% মানুষ প্রথমবার ওয়েবসাইট ভিজিট করে কিছুই কেনে না। আপনি কি তাদের হারিয়ে ফেলবেন? না!

ফেসবুক পিক্সেল (Pixel) ব্যবহার করে আপনি ওই ৯৮% মানুষকে ট্র্যাক করতে পারেন। পরবর্তীতে তাদের নিউজফিডে বারবার আপনার অ্যাড দেখাতে পারেন। একে বলে রি-টার্গেটিং।

"একজন কাস্টমার একটি পণ্য কেনার আগে গড়ে ৭ বার আপনার ব্র্যান্ডের নাম দেখতে হয়।" — মার্কেটিং সাইকোলজি

৪. ইমোশনাল মার্কেটিং

মানুষ যুক্তিতে বিচার করে, কিন্তু আবেগে কেনে। আপনার প্রোডাক্টের ফিচার না বেচে, বেনিফিট বা ইমোশন বিক্রি করুন।

  • খারাপ উদাহরণ: "এই ব্লেন্ডারের মোটর ১০০০ ওয়াট।" (ফিচার)
  • ভালো উদাহরণ: "সকালে তাড়াহুড়ো? ১ মিনিটেই তৈরি করুন পুরো পরিবারের নাস্তা।" (বেনিফিট/আবেগ)

বোনাস টিপস: ডাটা বিশ্লেষণ

অন্ধের মতো বুস্ট করবেন না। প্রতি সপ্তাহে অ্যাড ম্যানেজার চেক করুন:

  • কোন বয়সের মানুষ বেশি ক্লিক করছে?
  • কোন এলাকায় অর্ডার বেশি?
  • ভিডিওর কোন অংশে মানুষ দেখা বন্ধ করে দিচ্ছে?

এই ডাটা ব্যবহার করে পরবর্তী অ্যাডগুলো অপটিমাইজ করুন। মনে রাখবেন, টেস্ট, লার্ন এবং রিপিট — এটিই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সাফল্যের মন্ত্র।

লেখাটি শেয়ার করুন:

আপনার ব্যবসাকে পরবর্তী লেভেলে নিয়ে যান

মাত্র ১০০০ টাকায় নিজের ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করুন। কোনো কোডিং বা টেকনিক্যাল নলেজ ছাড়াই।

প্যাকেজ দেখুন